বুলিং ও যৌন হেনস্তা চিনতে সফটওয়্যার
১১ জানুয়ারি ২০২০যেটির নাম দেওয়া হয়েছে #মি টু বোটস৷ এই সফটওয়্যারটি সহকর্মীদের মধ্যে কথোপকথনের উপর নজরদারি এবং বিপদ সংকেত দেখাতে পারবে৷
কম্পিউটারকে কোনটি হেনস্তা সেটি বোঝানো অত্যন্ত কঠিন কাজ৷ কারণ তিনি নিজেই ‘হেনস্তার সব ধরন' সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন নেক্সএলপির প্রধান নির্বাহী জাই লিব৷
তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় এটা শুধু অশ্লীল কথা বলা৷ কিন্তু বিষয়টা তা নয়, এটা আরো অনেক ভাবে হতে পারে৷ হতে পারে ১৫টি ম্যাসেজ পাঠিয়েছে.......বা হতে পারে অশালীন ছবি৷''
লন্ডনের ল ফার্মসহ বিশ্বের ৫০টির বেশি কর্পোরেট ফার্ম নেক্স এর নানা সফটওয়্যার ব্যবহার করে৷ যারা নেক্সএলপির কৃত্রিম বুদ্ধমত্তা সম্পন্ন নতুন ওই সফটওয়্যার পরীক্ষার ক্ষেত্র হতে পারে৷ কারণ, লন্ডনে প্রতি তিনজন নারী আইনজীবীর একজন যৌন হেনস্তার শিকার হন৷
সফটওয়্যারটি গাণিতিক পরিভাষা ব্যবহার করে কম্পিউটার ডকুমেন্ট, ইমেইল বা চ্যাট পরীক্ষা করে বুলিং বা যৌন হেনস্তামূলক কিছু আছে কিনা তা সনাক্ত করবে৷ নানা ইন্ডিগেটর তথ্যগুলো যাচাই বাছাই করবে এবং কোনো সমস্যা আছে কিনা তা খুঁজবে৷ যদি সফটওয়্যার সন্দেহজনক কিছু খুঁজে পায় তবে বিপদ সংকেত দেবে এবং তদন্তের জন্য সেগুলো একজন আইনজীবী বা কোম্পানির মানব সম্পদ ব্যবস্থাপকের কাছে পাঠাবে৷
তবে ঠিক কোন ধরনের ইন্ডিগেটর বিপদ সংকেত হিসেবে লাল পতাকা দেখাবে তা গোপন রেখেছে নেক্সএলবি৷
প্রধান নির্বাহী লিব এ বিষয়ে কিছুটা ধারণা দিয়ে বলেন, সফটওয়্যারটি কথোপকথনে ব্যতিক্রমী শব্দ, কয়েক সপ্তাহ ধরে অনলাইন যোগাযোগের সময় বা কতবার করা হয়েছে ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবে৷
হার্ভার্ড ও এমআইটির লেকচারার অধ্যাপক ব্রিয়ান সুবিরানা আনলাইনে বুলিং ও যৌন হেনেস্তা নির্মূলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের এই পরিকল্পনা আশাপ্রদ বলে মনে করেন৷
তবে তিনে এও বলেন, ‘‘সফটওয়্যারটির সক্ষমতায় অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে৷
‘‘কারণ, কোনো কোনো সময় এত সুক্ষ্মভাবে হেনস্তা করা হয় যে তার প্রমাণ খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়৷ হার্ভাডে আমাদের ওই ধরনের হেনস্তা বুঝতে প্রশিক্ষন দেওয়া হয় এবং এজন্য এক ধরনের বিবেচনাশক্তি থাকা প্রয়োজন৷ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখনো সেগুলো বুঝতে সক্ষম না৷''
এসএনএল/কেএম