মোবাইল ফোনে নগ্নতা
১৭ ডিসেম্বর ২০০৯বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক, শিক্ষকমহল৷ কারণ মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে তরুণ-তরুণীরা নিজেদের যৌন উদ্দীপক ছবি কিংবা কোন জুটির ধারণকৃত ফুটেজও একে অপরকে পাঠাচ্ছে৷ আর প্রযুক্তির কল্যাণে তা ফোন ছেড়ে ইন্টারনেটের পাতায় হাজির হতে সময় নিচ্ছে না খুব একটা৷
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ ইন্টারনেট এবং অ্যামেরিকান লাইফ প্রজেক্টের জরিপ থেকে জানা যাচ্ছে, এক ষষ্ঠমাংশ তরুণ-তরুণীই পরিচিতদের কাছ থেকে মেসেজ আকারে নগ্ন বা অর্ধ নগ্ন ছবি এবং উদ্দীপক বার্তা গ্রহণ করছে৷ আধুনিক ভাষায় যাকে বলা হচ্ছে ‘সেক্সটিং'৷
শুধু তাই নয় জরিপ অনুযায়ী, ১২ বছর বয়সি চার শতাংশ কিশোর-কিশোরী নাকি নিজেদের নগ্ন ছবি ধারণ করে তা পাঠাচ্ছে একে অপরকে! ছড়াচ্ছে ইন্টারনেটে৷ ১৭ বছর বয়সিদের মধ্যে এই হার ৮ শতাংশ৷
১২ থেকে ১৭ বছর বয়সের ৮০০ তরুণ-তরুণীর উপর জরিপ চালায় পিউ ইন্টারনেট এবং অ্যামেরিকান লাইফ প্রজেক্ট৷ তাদের মতে, যেসব তরুণ-যুবা নিজেদের খরচে মোবাইল ব্যবহার করে এবং আনলিমিটেড টেক্সট মেসেজ পাঠানোর সুবিধাপ্রাপ্ত তাদের মধ্যে সেক্সটিং এর প্রবণতা বেশি৷ অন্যদিকে, অভিভাবকের দেয়া মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই প্রবণতা অনেক কম৷ তবে ছেলে-মেয়েরা সমানভাবে অংশ নিচ্ছে সেক্সটিং-এ৷
অবশ্য অনেক তরুণ-তরুণী জানাচ্ছে, পছন্দের জনকে নানা ধরণের উদ্দীপক ছবি বা বার্তা পাঠায় তারা৷ আর সেক্ষেত্রে খুব একটা ভাবনা চিন্তার অবকাশ নেই৷ কিন্তু পিউ-র দাবি, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর কোন কোন পক্ষ এসব টেক্সট বা ছবি পাঠিয়ে দেয় অন্যদের কাছে, ইন্টারনেটে৷ তখন তা ছড়িয়ে পড়ে সাধারণের মাঝে৷
শুধু মার্কিন মুলুক নয়, সেক্সটিং বেড়ে চলেছে বাংলাদেশ, ভারতের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতেও৷ এসব অঞ্চলের নানা ওয়েবসাইট বয়ে চলেছে তার নমুনাও৷ আর তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ-তরুণী বিশেষত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সিদের সেক্সটিং থেকে দূরে রাখতে এগিয়ে আসতে হবে অভিভাবকদের৷ তাদেরকে বোঝাতে হবে, মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিরাপদ দিকগুলো৷ আর তবেই, সেক্সটিং এর প্রবণতা কমানো সম্ভব হতে পারে৷