জার্মানিতে যৌনতামূলক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ?
১৬ এপ্রিল ২০১৬কথায় বলে, ‘সেক্স সেল্স', অর্থাৎ যৌনতা দিয়ে দুনিয়ার সব কিছু বেচা যায় – অন্তত বিজ্ঞাপনের জগতে কথাটা যেমন প্রচলিত, তেমনই সত্য বলে মনে হতে পারে৷ হাইকো মাস নাকি সেক্সিস্ট অ্যাডভার্টাইজিং-এর পরিবর্তে একটি ‘মডার্ন জেন্ডার ইমেজ' সৃষ্টি করতে চান৷ জার্মানির জনপ্রিয় সংবাদ সাপ্তাহিক ‘ডেয়ার স্পিগেল' জানাচ্ছে, মাস নাকি নিউ ইয়ার্স ইভে কোলোনের মুখ্য রেলওয়ে স্টেশনের সামনে মহিলাদের পক্ষে অবমানাকর যে সব ঘটনা ঘটেছে, তার কথাও ভেবেছেন৷
কিন্তু অ্যাডভার্টাইজিং কোম্পানির এগজিকিউটিভরা বলছেন, কোনো বিজ্ঞাপন যৌনতামূলক কিনা, তা কে নির্ধারণ করবে? তবে কি প্রতিটি বিজ্ঞাপনের খসড়া প্রথমে একটি রিভিউ বোর্ডে পাঠিয়ে বোর্ডের সার্টিফিকেট নিতে হবে? ওভাবে কাজ করাই সম্ভব নয়৷ তবে জার্মানিতে বাস্তবিক এ ধরনের একটি কর্তৃপক্ষ আছে, যার কাছে আপত্তিকর বা অসঙ্গত বিজ্ঞাপন সম্পর্কে অভিযোগ করা যায়; কর্তৃপক্ষের নাম, দ্য জার্মান কাউন্সিল ফর অ্যাডভার্টাইজিং স্ট্যানডার্ডস, অর্থাৎ বিজ্ঞাপনের মান সংক্রান্ত জার্মান পরিষদ৷
দক্ষিণ জার্মানির ছোট্ট ট্রিব্যার্গ শহরে এই নিয়ে সম্প্রতি একটা ছোটখাট ঝড় বয়ে গেছে৷ শহরের মেয়র দু'টি গাড়ি পার্কিং-এর জায়গাকে ‘‘মেনস পার্কিং'' হিসেবে চিহ্নিত করতে চেয়েছিলেন – কিন্তু সংশ্লিষ্ট ছবিতে একটি নগ্ন নারীর সিলুয়েট দেখা যাচ্ছিল; তলায় লেখা ছিল – ট্রিব্যার্গের প্রাকৃতিক দৃশ্যের যা বিশেষত্ব – ‘‘উঁচু উঁচু পাহাড়, গভীর উপত্যকা''৷ ইঙ্গিতটি এতই স্পষ্ট ও আপত্তিকর যে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে ও ছবিটির উপর রং করে সেটিকে মুছে দিতে হয়৷
আখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির অধ্যাপক ও মিডিয়া বিশেষজ্ঞ স্ভেন কমার বলেন, যে সব বিজ্ঞাপনে মহিলাদের যৌন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখানো হয়, কিশোর-তরুণদের মনে তা মহিলাদের সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে৷ বিজ্ঞাপন ও বিপণন আজকের দুনিয়ায় জীবন ও জগৎ সম্পর্কে মানুষের ধারণা গড়েপিটে দেয়৷ ‘‘কাজেই আমাদের ভাবতে হবে, আমরা কি ধরনের বিশ্বদর্শন প্রচার করতে চাই৷''