অর্থনৈতিক বৈষম্য
১৬ আগস্ট ২০১২বাংলাদেশে আয় বৈষম্য উৎসব আয়োজনের সময় প্রকটভাবে ধরা পড়ে৷ রাজধানী ঢাকায় লাখ টাকার ঈদের পোশাক বিক্রি হয়৷ আর একশ্রেণির বিত্তবান তা কিনতে পারেন সহজেই৷
কিন্তু মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্ত যেন খেই হারিয়ে ফেলেন৷ তারা যান কম দামের দোকানে বা ফুটপাতে৷ সেখানেও তাদের হিসেব মেলাতে হিমশিম খেতে হয়৷
অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ একে দেখছেন রাষ্ট্র আর সমাজের অসমবণ্টন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে৷ তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, বিশ্বব্যাপী মন্দার পরও গত তিন বছর বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে৷ কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি কোনো সুফল সাধারণ মানুষ পায়নি৷ পেয়েছেন অল্প কিছু লোক৷ ফলে বৈষম্য প্রকট হয়েছে৷
তিনি জানান, গত দু'বছরে বৈষম্য কমেনি৷ আর এই বৈষম্য এখন গ্রামের চেয়ে শহরে বেশি৷ কারণ গ্রাম ছেড়ে যারা শহরে আসেন, তাদের জন্য তেমন কোনো কাজ নেই৷
বাংলাদেশে এখনও ৪০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করে৷ আর এর ওপর এই তীব্র আয় বৈষম্য সামাজিক কাঠামোকে দুর্বল করে ফেলছে৷ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, সরকার আয় বৈষম্য কমাতে বাজেটে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে৷ কিন্তু তা যথেষ্ঠ নয়৷ প্রয়োজন টেকসই ব্যবস্থা৷ নয়তো তীব্র সামাজিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে৷
তিনি বলেন, কল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা নিয়ে কাজ করতে হবে৷ নয়তো প্রকৃত অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে না৷ উন্নত হবে না সাধারণ মানুষের অবস্থা৷
প্রতিবেদন: হারুন উর রশীদ স্বপন, ঢাকা
সম্পাদনা: দেবারতি গুহ